Heritage Of Bogra

বগুড়া জেলার ঐতিহ্য

গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর):


গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর), বগুড়া
বগুড়া শহর থেকে১০কিঃমিঃ উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে ২কিঃমিঃ দক্ষিণে গোকুল গ্রামের দক্ষিনপশ্চিম প্রান্তে যে স্মৃতিস্তপটি যুগযুগ ধরে অতীতের অসংখ্য ঘটনাবলীর নিদর্শন বুকে জড়িয়ে শির উঁচু করে দাড়িয়ে আছে ইহাই বেহুলার বাসর ঘর নামে পরিচিত।এ বাসর ঘর মেড় থেকে মেদ এবং বর্তমানে পুরার্কীতি নামে পরিচিত। তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে আনুমানিক খৃস্টাব্দ সপ্তম শতাব্দি থেকে ১২০০ শতাব্দির মধ্যে এটানির্মিত। ইস্টক নির্মিত এ স্ত্তপটি পূর্ব পশ্চিমে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ এবং ত্রিকোন বিশিষ্ট ১৭২ টি কক্ষ, অকল্পনীয় এ কক্ষগুলোর অসমতা এবং এলোমেলো বুনিয়াদ এর বোধগম্যতাকে আরো দুর্বোধ করে তুলেছে । বেহুলার কাহিনী সেনযুগের অনেক পূর্বেকার ঘটনা। বেহুলার বাসরঘর একটি অকল্পনীয় মনুমেন্ট। বর্তমান গবেষকদের মতে এমনুমেন্ট ৮০৯ থেকে ৮৪৭ খৃস্টাব্দে দেবপাল নির্মিত একটি বৈদ্যমঠ। এই স্ত্তপটিই বাসরঘর নয়। এই স্ত্তপটির পশ্চিমার্ধে আছে বাসর ঘরের প্রবাদ স্মৃতিচিহ্ন। পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোন বিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ একটি বাথরুম। উক্ত বাথরুমের মধ্যেছিল ৮ ফুট গভীর একটিকুপ। কুপটিতে বেহুলা লক্ষিনদর মধুনিশি যাপনের পর কুপের ক্ষিতজলে স্নান করে তাতে শুদ্ধতা লাভ করতে সক্ষম হতেন।
মহাস্থানগড়, বগুড়া:

মহাস্থানগড়, বগুড়া
মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরের সুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী। এ ধবংসাবশেষ বগুড়া জেলা শহরের ১৩ কিঃমিঃ উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরেঅবস্থিত। সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী পর্যায়ক্রমে মাটি ও ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে৫মিঃ উচু। বেস্টনী প্রাচীর ছাড়াও পূর্ব দিকে নদী ও অপর তিনদিকে গভীর পরিখা নগরীর অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন হতে জানা যায় যে, কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য , গুপ্ত এবং পাল শাসক বর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল। দূর্গের বাইরে উত্তর , পশ্চিম , দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম ৭/৮ কিলোমিটারের মধ্যে এখনও বিভিন্ন ধরণের বহু প্রাচীন নিদের্শন রয়েছে যা উপ-শহরের সাক্ষ্য বহন করে। উল্লেখ্য, বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হুয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।প্রখ্যাত বৃটিশ প্রত্নতত্ববিদ স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দে মহাস্থান গড়ের ধ্বংসাবশেষকে ফুয়েন সাঙ বর্ণিত পুন্ডু নগর হিসেবে সঠিক ভাবে সনাক্ত করে

ভাসু- বিহার:


স্থানীয়ভাবে নরপতির ধাপ নামে পরিচিত এ প্রত্নস্থলে ১৯৭৩-৭৪ সনে উৎখনন শুরু করা হয় এবং পরবর্তী দুই মৌসুম তা অব্যাহত থাকে দুটি মধ্যম আকৃতির সংঘারাম ও একটি মন্দিরের স্থাপতিক কাঠামোসহ প্রচুর পরিমান প্রত্নবস্ত্ত উম্মোচিত হয়। অপেক্ষাকৃত ছোট সংঘারামটির আয়তন উত্তর-দক্ষিনে ৪৯ মিঃ ও পূর্ব পশ্চিমে ৪৬ মিঃ। এর চার বাহুতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ২৬টি কক্ষ এবং কক্ষগুলোর সামনে চর্তুপার্শ্বে ঘোরানো বারান্দা এবং পূর্ববাহুর কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ পথ রয়েছে। বৃহদায়তনের বিহারটির ভূমি পরিকল্পনা ও স্থাপত্য কৌশল প্রথমটির অনুরুপ পরিমাপ পূর্ব পশ্চিমে ৫৬মিঃ ×উত্তর দক্ষিনে ৪৯ মিঃ এর চার বাহুতে ৩০টি ভিক্ষু কক্ষ এবং দক্ষিন বাহুর কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ পথ অবস্থিত। বিহারের অদুরে উত্তরমূখী মন্দিরটির আয়তন উত্তর -দক্ষিণে ৩৮মিঃ এবং পূর্ব পশ্চিমে ২৭মিঃ মন্দিরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি বর্গাকার মন্ডপ এর চতুর্দিকে ধাপে ধাপে উন্নীত প্রদক্ষিণ পথ। প্রায় ৮০০ প্রত্নবস্ত্তর মধ্যে ব্রোঞ্জের ক্ষুদ্রাকৃতির মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক এবং পোড়ামাটির সীল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এছাড়াও সংগৃহীত হয়েছে মূল্যবান পাথরের গুটিকা, লোহার পেরেক, মাটির গুটিকা, নকসাংকিত ইট, মাটির প্রদীপ ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহারের দ্রব্যাদি এবং প্রচুর মৃম্ময় পাথর টুকরা। এ সমস্ত বিভিন্ন ধরণের প্রত্নবস্ত্তর থেকে ভাসু বিহারের শেষ যুগের (দশ/একাদশ শতক) শিল্পকর্ম ও দৈনন্দিন যাত্রার একটি পরিচয় পাওয়া যায়।

 
করতোয়া নদী:

 করতোয়া নদী, বগুড়া
রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত একটি ছোট নদী যা একসময় একটি বড় ও পবিত্র নদী ছিল। এর একটি গতিপথ বর্তমানে বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়দিয়ে (যা পুণ্ড্রনগর নামে পরিচিত ও প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর রাজধানী) প্রবাহমান। করতোয়া মাহাত্ম্য এর অতীত ঐতিহ্যের প্রমাণ করে। মহাভারতে বলা আছে যে, তিনদিন উপবাসের পর করতোয়া নদীতে ভ্রমণ করা অশ্বমেধা (ঘোড়া বলিদান) এর সমান পূণ্যের সমান।আরেকটি প্রাচীন শহর শ্রাবস্তী, খুব সম্ভবত মহাস্থানগড়ের উত্তরে করতোয়ার পাড়ে অবস্থিত ছিল। অবশ্য শ্রাবস্তীর সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আছে
 বগুড়ার দই :


বগুড়ার দই
কথা শিল্পী সৈয়দ মুজতবা আলীর 'রসগোল্লা'  গল্প থেকে জানা যায় আমাদের রসগোল্লা নিয়ে বিদেশের ইমিগ্রেশনে কি লঙ্কা কান্ডই না ঘটে ছিল। রসগোল্লা মুখে দিয়ে ইমিগ্রেশনের বড় বাবু আড়াই মিনিট নাকি মুখ বন্ধ করে রেখেছিল অভিভূত হয়ে। বঙ্গ দেশের রসগোল্লার মত আমাদের বগুড়ার দই নিয়ে আছে অনেক মজার কান্ড।
পাকিস্তানের তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বগুড়ায় এসে দইয়ের স্বাদ পেয়ে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাদের সহানুভূতি পেতে পাঠান এই দই।

বিদেশে বগুড়ার দইয়ের খ্যাতি সর্বপ্রথম ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছরের গোড়ার দিকে তৎকালীন বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর স্যার জন এন্ডারসন বগুড়া নওয়াববাড়ি বেড়াতে এসে প্রথম দইয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন। তাকে কাচের পাত্রে তৈরি করা বিশেষ ধরনের দই খেতে দেওয়া হয়। লোভনীয় স্বাদের কারণে গভর্নর এন্ডারসন বগুড়ার দই ইংল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

বগুড়ার দই এর স্বাদ পেতে এখন ভারত উঠে পড়ে লেগেছে। গত বছর জলপাইগুড়ি জেলার চেম্বার কর্মকর্তাদের মধ্যে বগুড়ার দই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। ওই সময়ে সেখানে অনুষ্ঠিত বাণিজ্যমেলায় বগুড়ার দইয়ের কদর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে বগুড়া থেকে ১০ মেট্রিক টন (প্রতিটি ৬শ' গ্রাম ওজনের ১৭ হাজারেরও বেশি সরা) দই সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরে অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যে এত দই পাঠানো যায়নি। গত বছর ডিসেম্বরে জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত নর্থ বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনবিএনসিসিআই) আয়োজিত বাণিজ্যমেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৫শ' কেজি দই পাঠানো হয় বগুড়া থেকে। আর যায় কোথায়! দইয়ের স্বাদ পেয়ে সেখানকার লোক পিপড়ের মতো লাইন ধরে। ভিড় করতে থাকে স্টলে। এত চাহিদা পূরণ করা যায়নি।

বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা কিংবা অঞ্চলে উৎপাদিত হলেও কিছু বিশেষত্বের কারণে 'বগুড়ার দই'-এর খ্যাতি দেশজুড়ে। উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে কারিগরদের (উৎপাদক) বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা যত্নবান হওয়ায় বগুড়ার দই স্বাদে-গুণে তুলনাহীন। প্রায় দেড়শ' বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোষ পরিবারের হাত ধরে বগুড়ায় দইয়ের উৎপাদন শুরু। পরবর্তী সময়ে বগুড়ার নওয়াব আলতাফ আলী চৌধুরীর (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর বাবা) পৃষ্ঠপোষকতায় শেরপুরের ঘোষ পরিবারের অন্যতম সদস্য গৌর গোপাল বগুড়া শহরে দই উৎপাদন শুরু করেন।

বগুড়ার দই ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়া, রানী এলিজাবেথ থেকে শুরু করে মার্কিন মুল্লুকে পৌছে গেলেও আমরা এই দই বড় পরিসরে রপ্তানী করতে পারছি না। রফতানির সম্ভাবনা থাকলেও কাস্টমসের ট্যারিফ সিডিউলে পণ্যের তালিকায় দইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বাইরে বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না।

আশা করছি সরকার এই বিষয়ে আন্তরিক হবে। আমাদের দেশীয় খাবারের এত সুনাম তারপরও কেন আমরা এ থেকে মুনাফা অর্জন করতে পারছি না তা এক বড় দুঃখ।
খেড়ুয়া মসজিদ, শেরপুর:

 এটি সুলতানী ও মোগল আমলে নির্মিতএকটি ঐতিহাসিক মসজিদ।

খেরুয়া মসজিদ বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন। মোগল-পূর্ব সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদ। প্রায় ৪৩০ বছর ধরে টিকে থাকা এই মসজিদের অবস্থান বগুড়া শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরের খোন্দকার টোলা মহল্লায়।মসজিদটি টিকে আছে চার কোণের প্রকাণ্ড আকারের মিনার আর চওড়া দেয়ালের কারণে। ইটে খোদাই করা নকশা ক্ষয়ে গেছে এবং চুন-সুরকির প্রলেপ ঝরে গেছে। চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা পাতলা লাল ইটের দেয়ালগুলো ১.৮১ মিটার চওড়া। তার ওপর ভর করেই ছাদের ওপর টিকে আছে খেরুয়া মসজিদের তিনটি গম্বুজ। খেরুয়া মসজিদ বাইরের দিক থেকে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১৭.২৭ মিটার, প্রস্থ ৭.৪২ মিটার। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান দরজা। মাঝেরটি আকারে বড়। উত্তর-দক্ষিণে একটি করে খিলান দরজা। কোনোটিতেই চৌকাঠ নেই। ফলে দরজার পাল্লা ছিল না। পূর্বের বড় দরজাটির নিচে কালো পাথরের পাটাতন। পূর্বের দরজা বরাবর পশ্চিমের দেয়ালের ভেতরের অংশে তিনটি মেহরাব। মেহরাবগুলোর ওপরের অংশ চমৎকার কারুকাজখচিত। মসজিদটির নিচের অংশে ভূমি পরিকল্পনা মোগল স্থাপত্যরীতির। ওপরের অংশ মোগল-পূর্ব সুলতানিরীতিতে। চার কোণে দেয়াল থেকে খানিকটা সামনে চারটি বিশাল মিনার। ছাদের ওপর তিনটি ৩.৭১ মিটার ব্যাসের অর্ধ গোলাকৃতির গম্বুজ। কার্নিশ ধনুকের মতো বাঁকা। তার তলায় সারিবদ্ধ খিলান আকৃতির প্যানেলের অলংকরণ। অত্যন্ত সুন্দর এর দেয়ালের গাঁথুনি। নান্দনিক বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ইটের বিন্যাস ও খাড়া প্যানেল তৈরি করে। সামনের অংশের ইটে আছে ফুল-লতা-পাতা খোদাই করা নকশা। মিনার, গম্বুজ, নকশা ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনিতে পুরো স্থাপত্যটি অত্যন্ত নান্দনিক হয়ে উঠেছে। মসজিদের সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা আয়তাকার মাঠ। মসজিদের কিনার দিয়ে তাল, নারকেল, আম, কদমগাছের সারি। এক পাশে মৌসুমি ফুলের গাছও আছে। ইটের প্রাচীরের ওপর লোহার রেলিং দিয়ে পুরো চত্বর ঘেরা। মোট জায়গার পরিমাণ প্রায় ৫৯ শতাংশ। নামাজের সময় মুসল্লিরা ছাড়া সাধারণত কেউ ভেতরে প্রবেশ করে না। তাই প্রাঙ্গণটি নিরিবিলি এবং খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। গাছগাছালিঘেরা সবুজ পরিবেশে তিন গম্বুজওয়ালা প্রাচীন স্থাপত্যটিকে মনোরম দেখায়। 

বগুড়ার বিশেষ পণ্য

কৃষিভিত্তিক পণ্য

কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ার স্থান প্রথম সারিতে। সমগ্র বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মধ্যে শতকরা ১০-১৫ ভাগই উৎপন্ন হয় বগুড়ায়। বগুড়ার মাটি কৃষিপণ্য উৎপাদনে অনন্য ভুমিকা রাখছে। এই মাটিতে সারা বছর জুড়ে কৃষিপণ্য উৎপন্ন হয়। বগুড়ার মাটির কথা বিবেচনা করে শিবগঞ্জ উপজেলায় দেশের একমাত্র মসলা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বগুড়ার কৃষি পণ্য গুলোর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য কিছু পণ্যের বিবরণ নিচে দেয়া হলো-

আউশ ধান

স্বাধীনতা উত্তোরকাল বা ৮০ এর দশক অবধি জেলায় গড়িয়া, বাঙ্গাল বকরী, ধারিয়া, কটকতারা, পানবিড়া, কেগুনবিচি, কাশিয়াবাঞ্জা, থুবড়ী, গোরপা, ইত্যাদি স্থানীয় জাতের আউশ ধানের জাত চাষ হতো।

পরবর্তিতে বিআর- ৩, পূর্বাচি,  বিআর -৮ বিআর ৯, বিআর ১৪ জাতগুলো দেশী আউশের স্থান দখল করে। সেচের আওতায় বোরো চাষ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আউশ চাষের আবাদী এলাকা ক্রমহ্রাস পায় ও এক পর্যায়ে তা নব্বইয়ের দশকে বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হয়।

আমন ধান

আদিকাল থেকেই জেলায় ২ প্রকারের আমন চাষ হতো। বন্যামুক্ত মাঝারি উঁচু জমিতে মুগী, দাউদশাইল, নাকডুম, ঢেপা, কলমঢেপা, বাঁশি, পদ্মশাইল, কনকচূড়, জনকৈ, পঙ্খিরাজ, বাদিয়াবুনো, তিলকাপুর, চিনি আতোপ, জিরাশাইল, উঁকুনমধু, পাটজাগ, জটা ইত্যাদি স্থানীয় জাতের রোপা আমন চাষ হতো।  এই জাতগুলোর মধ্যে তিলকাপুর, চিনি আতোপ, জিরাশাইল, উঁকুনমধু জাতগুলো সুগন্ধি জাত হিসেবে বিখ্যাত ছিল এবং এখনো এগুলোর চাষ হয়।

গাঞ্জা ধান

গাঞ্জা ধান বগুড়ায় বিশেষ জাতের ধান যা বগুড়া ছাড়া অন্য কোন অঞ্চলে পাওয়া য়ায় না। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট  এবং সোনাতলার চর অঞ্চলে এই ধানের চাষ হয়। এই ধানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শীত মৌসুমে অন্য কোন জাতের ধানের শীষ বের হয় না, একমাত্র গাঞ্জার ধানের শীষ বের হয়। তাই গাঞ্জা ধান জানুয়ারি মাসে বাজারে আসে। এই ধানের চাউল সরম্ন এবং সুস্বাদু। রাজধানী ঢাকা সহ বড় বড় শহরে গাঞ্জার চাউলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। অন্যান্য ধানের জাতের মতই এই জাতের ধান বিঘা প্রতি ১১/১২ মণ উৎপাদন হয়।

কলা

কলা এখন বগুড়ার চাষীর অন্যতম কৃষি পণ্য। বগুড়ার কলা, ঢাকাসহ দেশের তারকা চিহ্নিত হোটেল পর্যনত্ম স্থান দখল করে নিয়েছে। বগুড়ার সাগর কলা এবং সবরি/অনুপম, চিনিচাম্পা কলা প্রসিদ্ধ। একসময় শাজাহানপুর উপজেলার চুপিনগর হাট ছিল কলার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে বগুড়ায় কলার প্রধান প্রধান হাটগুলো হলো- মোকামতলা, চন্ডিহারা, দুবলাগাড়ী, মহাস্থান, রহবল, মাঝিড়া, সাবগ্রাম ইত্যাদি। এ হাটগুলো থেকে  প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে কলা ঢাকায় চালান হয়। বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে বগুড়ার বেশির ভাগ কলার হাট বসে মহাসড়কের পার্শ্বে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কলা ডজন বা হালী হিসাবে খুচড়া বিক্রি হলেও বগুড়ায় শাজাহানপুর, শেরপুর, সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কলা কেজি দরে বিক্রি হয়।

সবজি

বগুড়ার সবজি এখন শুধুমাত্র বগুড়া জেলার চাহিদা মেটাচ্ছে না বরং প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে সবজি রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে চালান হচ্ছে। বগুড়া জেলার শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, সোনাতলা এবং শেরপুর উপজেলা সবজি উৎপাদনে অনন্য অবদান রাখছে। সবজির উলেস্নখযোগ্য বাজারগুলো হলো- মহাস্থান, মোকামতলা, পলস্নীমঙ্গল, মাঝিড়া, নয়মাইল, দশমাইল, মির্জাপুর, মাটিডালী, চুপিনগর, দুবলাগাড়ী, সাবগ্রাম, মাদলা, তরনী, অদ্দিরগোলা ইত্যাদি। উলেস্নখযোগ্য সবজিগুলো হলো ফুলকপি, বাধাকপি, বেগুন, পটল, শিম, শশা, বরবটি, ঢেড়স, লাউ, কুমড়া, মূলা, কচু, কচুর লতি, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, করলা ইত্যাদি। যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু তৈরি হওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গ তথা বগুড়ার সঙ্গে রাজধানী সহ  বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হওয়ায় বগুড়ার চাষীরা সহজেই তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন এবং ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। ফলে তারা সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। বগুড়া জেলায় দিনদিন সবজি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আলু

বগুড়ার আলুর চাহিদা দেশজুড়ে। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় সর্বাধিক আলুর চাষ হলেও বগুড়া সদর,  শেরপুর, কাহালু, দুপচাঁচিয়া এবং আদমদীঘি উপজেলার কিছু কিছু অংশে আলুর চাষ হয়ে থাকে। আলু উৎপাদিত হয় বছরের ফেব্রম্নয়ারি-মার্চ মাসে। বগুড়ার হাগড়াই (আঠালো) আলু একটি উন্নত জাতের সুস্বাদু আলু। হাগড়াই (আঠালো) আলু শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ও ময়দানহাটা ইউনিয়নে সর্বাধিক উৎপাদন হয়। হাগড়াই আলুর উৎপাদন সময় বেশি এবং হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কম হওয়ায় কৃষকেরা এই আলুর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। বগুড়ায় উৎপাদিত আলুর জাত সমূহ হলো-লাল পাকড়ি,এসট্রিজ,ফেলসিনা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানোলা, লেডি ড়োসেতা ইত্যাদি উলেস্নখযোগ্য। আলুর প্রধান হাটসমূহ হলো- মহাস্থান, কিচক, বাঘোপাড়া, মোকামতলা, রহবল,দুবলাগাড়ী, নয়মাইল, মির্জাপুর,দশমাইল, বুড়িগঞ্জ, ঘোড়াধাপ, নামুজা এবং ধাপেরহাট।এছাড়াও বগুড়ায় মিষ্টি আলু ও কেশর আলু প্রচুর চাষ হয়। আলুর মৌসুমে ট্রাকে ট্রাকে আলু উলেস্নখিত হাটগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়। কৃষকেরা অধিক মুনাফার আশায় আলু স্থানীয় হিমাগারে সংরড়্গণ করে থাকেন। বর্তমানে আলু বগুড়ার কৃষকের একটি অত্যনত্ম লাভজনক সবজি। আলু ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় অনেকগুলো হিমাগার তৈরি হয়েছে।

মসলা

বগুড়ার মাটি মসলা উৎপাদনের জন্য বিশেষ উপযোগী। বগুড়া জেলায় যে সমসত্ম মসলা উৎপাদিত হয় তার মধ্যে- পিয়াজ, আদা, মরিচ, রসুন ধনিয়া, হলুদ, মেতি, মৌরি, শলুক, ফিরিঙ্গী অন্যতম। আদা ও হলুদ  শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। দেশের একমাত্র মসলা গবেষণা কেন্দ্রটি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত। মসলা গবেষণা কেন্দ্রে বর্তমানে কালো এলাচ, সাদা এলাচ, দারম্নচিনি, পুদিনা এবং পাতা পিয়াজ নিয়ে গবেষণা চলছে।

মরিচ

বগুড়ার মরিচ দেশের মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। দেশের বড় বড় হাট বাজার এবং শপিং মল সমূহে বগুড়ার মরিচ সুনামের সঙ্গে বিক্রি হয়ে থাকে। দেশের অন্যান্য এলাকার মরিচের তুলনায় বগুড়ার মরিচের গুণমান অনন্য। দেশের ব্রান্ডেড কোম্পানীগুলো বগুড়ার মরিচ কিনে তা গুড়ো করে বাজারজাত করছে। বগুড়া জেলার গাবতলী, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট, শাজাহানপুর উপজেলা মরিচের জন্য বিখ্যাত। মরিচের প্রসিদ্ধ বাজার গুলোর মধ্যে সারিয়াকান্দি, ফুলবাড়ী, নাটিয়াপাড়া,ধুনট, গোসাইবাড়ী, পেরীরহাট, মাদলা, দুবলাগাড়ী, গাবতলী, সাবগ্রাম, নাড়ুয়ামালা, সোনাতলা, বালুয়া, জোড়গাছা, তরনীহাট, চড়পাড়া, কলেজ ষ্টেশন,  ভেলুরপাড়া, কুতুবপুর, মথুরাপাড়া উলেস্নখযোগ্য।

শিল্পপণ্য

বগুড়া উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র এবং শিল্পের শহর বলে খ্যাত। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলার মানুষ এই শহরে আসেন তার ব্যবহার্য প্রতিটি পণ্য ন্যায্য এবং পাইকারী মূল্যে কিনতে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পরে বগুড়াই একমাত্র বাজার যেখানে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। এ জেলায় ভারী, মাঝারী, ড়্গুদ্র, হসত্ম ও কুটির শিল্পের জন্য বিখ্যাত।

কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ

স্বাধীনতা উত্তর (সত্তর দশকে) যখন বাংলাদেশের কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ শুরম্ন হয় তখন বগুড়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠানের কিছু মালিক মনে করেন কৃষি যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারলে তা স্বল্পমূল্যে বাজারজাতকরা যাবে এবং কৃষকগণ উপকৃত হবে। এ কাজে উৎসাহ যোগায় জাহিদ মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ, আজাদ মেটাল সহ অন্যান্য মেটাল ফ্যাক্টরির মালিক এবং বগুড়া পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর দড়্গ কারিগর/প্রকৌশলী। বাংলাদেশে ব্যবহৃত কৃষি যন্ত্রপাতির শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগই বগুড়ায় তৈরি হচ্ছে।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশের যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে উন্নয়নের জন্য বগুড়া শহরে গড়ে উঠেছে ড়্গুদ্র এবং মাঝারী মানের প্রায় ৮ শতাধিক  কারখানা। ৪৫টি মোল্ড বা ফাউন্ড্রিতে তৈরি হচ্ছে অগনিত যন্ত্র সামগ্রী, ডিজেল ইঞ্জিন, ভুট্টা ভাঙ্গানোর মেশিন, ধান ভাঙ্গানো মেশিন, নিড়ানো যন্ত্র, স্প্রে মেশিন, পাওয়ার টিলারের যন্ত্রাংশ, ইরিগেশন পাম্প, কৃষিতে ব্যবহৃত প্রায় ৪০/৫০ প্রকার যন্ত্রাংশ যেমন- ডিজেল ইঞ্জিন লাইনার (সি-২৫,২০,১২), ডিজেল ইঞ্জিন পিষ্টোন (সি-২৫,২০,২০), গজন পিন(সি-২৫,২৪,২০), গজন বুশ(সি-২৫,২৪,২০),হেড গ্যসকেট (সি-২৫,২০,১২), হেড সেট, ভালক গাইড, ফুয়েল ফিল্টার, রেসার আর্ম, পাম্প(৩",৪",৫"), ইমপিলার (৩",৪",৫"), ওয়েল সিল(৫০,৮০,১২),এয়ার ক্লিনার ১২/১৬এইচপি ইঞ্জিন, এয়ার ক্লিনার ৮.৫এইচপি ইঞ্জিন, এয়ার ক্লিনার ৬এইচপি ইঞ্জিন, সালেন্সার ১২/১৬এইচপি ইঞ্জিন, সালেন্সার ৮.৫এইচপি ইঞ্জিন, সালেন্সার ৬এইচপি ইঞ্জিন, চেইন কভার, বুশ গাইড, ওয়াশার, পিটি টিন নাট, পিটি চেইন কভার, পিটি পুলি (7",7.5", 8", 8.25"), ভি-পুলি, ফুয়েল কী, ওয়েল পাইপ, ওয়েল কেচার (কুবোটা-৯০০/৬০০/৫৫০/৯০), ওয়েল কেচার (মিটসুবিশি-১১০/৯০/৭৫), ক্লাস বুশ, গভারনর বুশ (বড় ও ছোট),্‌ এসএফ আম পাইপ, এস এফ পুলার টেনশন সেট, ৬২০৯ হাউজিং, ৬২০৭ হাউজিং, ৬৩০৭ হাউজিং, ৬৩১১ হাউজিং সি/৬, ফুয়েল ট্যাঙ্ক ৮.৫ এইচপি, সিন্টিফিউগাল পাম্প ইঞ্জিন, সাইচ হলার, শ্যালো টিউবওয়েল, এক্সপেলান। বাংলাদেশে ব্যবহৃত কৃষি যন্ত্রপাতির শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ বগুড়ায় তৈরি হচ্ছে। বগুড়ার কৃষি যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ তৈরি কারখানায় প্রত্যড়্গ এবং পরোড়্গ ভাবে প্রায় ১ লড়্গাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

বগুড়ার বিসিকে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শহরের সূত্রাপুর, গোহাইল রোড, নামাজগড়, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এসব হালকা প্রকৌশল শিল্প গড়ে উঠেছে। উলেস্নখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-১) কামাল মেশিন টুলস, সিলিমপুর, ২) পিসিএল পস্নাষ্টিক, গন্ডগ্রাম ৩) সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং, সান্যাল পাড়া, শেরপুর  ৪) হক মেটাল ওয়ার্কস, ঠনঠনিয়া প্রথম লেন ৫) ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং, ঠনঠনিয়া প্রথম লেন ৬) আজাদ ইঞ্জিনিয়ারিং, ঠনঠনিয়া প্রথম লেন ৭) আল মদিনা মেটাল ওয়ার্কস, বিসিক ৮) গুঞ্জন মেটাল ওয়ার্কস,বিসিক ৯) রিয়াল মেটাল ওয়ার্কস,বিসিক ১০) মিল্টন মেটাল ওয়ার্কস, বিসিক ১১) দিলিপ মেটাল ওয়ার্কস, সুত্রাপুর ১২) নিউ মেটাল ওয়ার্কস, এরম্নলিয়া, বগুড়া।

বগুড়ার তৈরি কৃষি যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ স্বল্প আকারে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল এবং ভূটানে রপ্তানী হচ্ছে। সম্প্রতি বগুড়ায় তৈরি টিউবওয়েল নেপালে রপ্তানীর জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

যানবাহন

ভটভটি: বগুড়ার শেরপুরে প্রথম শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যানবাহন (ভটভটি/নসিমন/করিমন/আলম সাধু) তৈরি হয়। যা বর্তমানে বগুড়া তথা বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পণ্য এবং যাত্রী বহণের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বগুড়া জেলার কাহালু, দুপচাচিয়া, শেরপুর ও বগুড়া সদর উপজেলায় ভটভটি তৈরির অনেকগুলো কারখানা  প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ইঞ্জিন চালিত রিক্সা ভ্যান: ভটভটির মতো শ্যালো চালিত রিক্সা ভ্যান বগুড়ার গ্রামঞ্চলের সাধারণ মানুষের পণ্য এবং যাত্রীবহনের অন্যতম বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মটর চালিত রিক্সা: শহর এলাকায় সাধারন রিক্সার পাশাপাশি বর্তমানে ব্যাপক আকারে মটর চালিত রিক্সা যাত্রী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উপরোল্লেখিত তিনটি পরিবহনই বগুড়ায় ব্যাপক ভাবে তৈরি হচ্ছে এবং উত্তরাঞ্চলের জেলা সমূহে সরবরাহ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। যদিও উলেস্নখিত যানবাহন তিনটি স্থানীয় টেকনোলজীতে তৈরি যা ত্রম্নটিপূর্ণ বলে মনে হয় কিন্তু অর্থনীতিতে এর ব্যপক প্রভাব রয়েছে।

সাবান

এক সময় দড়্গিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রসিদ্ধ গোসল করার সাবান জান-ই সাবা বগুড়া জামিল সোপ কারখানায় তৈরী হত। এই কারখানার কাপড় কাচার সাবান ছিল বিখ্যাত। বর্তমানে জামিল সোপ কারখানাটি আর নেই। সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে এ কারখানার জয়গাটি বর্তমানে আবাসন প্রকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমানে বগুড়ায় কাপড় কাঁচার সাবানের চারটি কারখানা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- নর্থ বেঙ্গল সোপ ফ্যাক্টরী, পূর্ব পালশা, সুলতান সোপ ফ্যাক্টরী, জয়পুরপাড়া, ইয়াছিন সোপ ফ্যাক্টরী, কলোনী বাজার এবং মুক্তি সোপ ফ্যাক্টরী, নিশিন্দারা। এই ফ্যাক্টরীগুলোতে ডিমকেক, বাটিকেক, সুইটবল, মিনিডিম, বাটিডিম, বল নামের সাবান তৈরি হয়। এই কাপড় কাচার সাবানসমূহ বগুড়া জেলার চাহিদা মিটিয়ে আশেপাশের জেলা সমূহে সরবরাহ হচ্ছে। এই সাবান ফ্যাক্টরীগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

পাটজাত পণ্য

বগুড়া জেলার সদর, কাহালু, শিবগঞ্জ এবং গাবতলী উপজেলায় বেশ কয়েকটি চটকল আছে, এই গুলির মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমানে চটের বসত্মা এবং সুতলি উৎপাদিত হয়।এই চটের বসত্মা এবং সুতলি বগুড়া জেলার চহিদা মিটিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সতরঞ্জি

একসময় ভান্ডাড়ি কটন মিলস ও জেলখানায় উন্নতমানের সতরঞ্জি তৈরি করা হতো এবং সেগুলো বিদেশে রপ্তানী হতো। বর্তমানে ভান্ডাড়ি কটন মিলস এর আর কোন অসিত্মত্ব নেই, জেলখানাতেও আর সতরঞ্জি তৈরি হয় না।

পাট ও কাপড় দ্বারা হাতের তৈরি পণ্য

বগুড়া জেলার নারীরা পাট এবং কাপড় দিয়ে হাতের তৈরি বিভিন্ন সৌখিন পণ্য প্রস্তুত করে থাকে। দেশ এবং বিদেশে এ সকল পণ্যের সুখ্যাতি রয়েছে। পাট ও কাপড় দ্বারা তৈরি পণ্যগুলোর মধ্যে নকসী কাঁথা, বেড কভার, কুষন কভার, বিভিন্ন ধরনের এবং আকারের ব্যাগ, টেবিল ক্লথ, মেয়েদের পার্স, ড্রইং রম্নম সাজানোর বিভিন্ন শো-পিস, ক্যামোনো (মেয়েদের গোসলের পর ব্যবহৃত এক ধরনের পোষাক) ইংল্যান্ড, জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়েসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে।

এই কাজে মহাস্থান, চন্ডিহারা, গোকুল, ঠেঙ্গামারা, নামুজা, সুলতানগঞ্জ, মাদলা, নূনগোলা, বিহার এলাকার নারীরা সম্পৃক্ত। উলেস্নখিত এলাকার প্রায় ১৫০০ জন নারী তাদের গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি এই হসত্মশিল্পের কাজ করে থাকে। তারা এ কাজে মাসিক ২৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যনত্ম উপার্জন করে। কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় এনজিও এ কাজে কারিগরি, আর্থিক এবং বিপণনে সহায়তা করেছে।

তালের আঁশের তৈরি পণ্য

দুপচাঁচিয়া তালোড়া এবং এর আশেপাশের গ্রাম, আদমদীঘি উপজেলা, বগুড়া সদর উপজেলার মহাস্থান, গোকুল, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর, চন্ডিহারা, বিহার এলাকার নারীরা তালের ডোঙ্গা (পাতার গোড়ার দিকের অংশ) কে প্রসেস করে এক ধরনের আঁশ বের করে এবং সেই আঁশ দিয়ে টুপি, হ্যাট, বিভিন্ন আকার এবং ধরনের টেবিল ম্যাট, ড্রইং রম্নম সাজানোর বিভিন্ন সৌখিন সামগ্রী তৈরি করে। তালের আঁশের তৈরি এই সব সামগ্রী দেশের বড় বড় শহরগুলোর দামি দামি দোকান, সপিংমল সমূহে এবং আড়ং এর দোকান সমূহে রয়েছে ব্যপক চাহিদা। জাতীয় পর্যায়ের এনজিও এই কাজে নারীদের আর্থিক,করিগরি এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা করছে। এই কাজের মাধ্যমে হাজারও নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন।

তালপাখা

বগুড়া জেলার কাহালু ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিশেষ ধরনের হাতে তৈরি পাখা পাওয়া যায়, যা তালগাছের পাতা দিয়ে হাতে তৈরি করা হয়। গরম কালে এই তালপাখার স্থানীয় হাট বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বগুড়ার বাইরে রাজধানী সহ অন্যান্য জেলায় এই তালপাখার চাহিদা অনেক।

কাইশার তৈরী পণ্য

বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়ন এর গোসাইবাড়ী, বাগড়া, তাজপুর, গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া, মহিপুর, বনমরিচা এবং তার আশে-পাশের এলাকার গ্রাম সমূহের নারীরা কাইশা নামক এক ধরনের ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে সুন্দর সুন্দর সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী যেমন-বিভিন্ন আকারের এবং ধরনের ডালা, ময়লা রাখার বাক্স (গোল, চিকন, সিলিন্ডার এবং হাফ-সিলিন্ডার আকারের),  ওয়েস্ট পেপার বক্স, ডাইনিং টেবিলে ফল রাখার পাত্র, ড্রইং রম্নমে ফুলের টব রাখার কেস এবং বিভিন্ন রকম সৌখিন সামগ্রী তৈরী করে। ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফট লিমিটেড, সানট্রেড হ্যান্ডিক্রাফট, কনস্‌পো, ক্ল্যাসিক, বাংলা ক্রাফ্‌ট নামক নামী দামী সংস্থা এই সামগ্রীগুলো তৈরী ও বিপণনে সহায়তা করে থাকে। এই সংস্থাগুলো কাইশার পণ্য সামগ্রীগুলো সরাসরি ইংল্যান্ড, ইতালি, কানাডা, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানীতে রপ্তানী করে থাকে।

টুপি

শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের কল্যাণী, চকধলী, কাশিয়াবালা, জয়নগর, জয়লা, খামারকান্দি ইউনিয়নের বেরেরবাড়ী, ঝাঁঝর, পারভবানীপুর, রামনগর, মমিনপুর, খানপুর ইউনিয়নের নলবাড়িয়া, দশসিকা, ভীমজানি, ছাতিয়ানী, গোপালপুর এবং গাড়িদহ ইউনিয়নের জয়নগর ও মহিপুর ধূনট উপজেলার উলস্নাপাড়া, মাটিখুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার সুলতানাবাদ ও বিবিরপাড়া গ্রামের নারীরা তাদের সাংসারিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজাইনের এবং বিভিন্ন মাপের টুপি তৈরি করে থাকেন। এই টুপি তৈরিতে শেরপুর উপজেলার হামছায়াপুর (কাঠালতলা) এলাকার মেসার্স জুয়েল ক্যাপ ডিপো আর্থিক,করিগরি এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা করছে। এই টুপি সৌদি আরবে নিয়মিত রপ্তানি হয়।

কম্বল

আদমদীঘি উপজেলার মুরইল বাজার থেকে ৪ কিঃমিঃ উত্তরে শাঁওইল গ্রাম। ১৪টি পাড়া নিয়ে গঠিত এই গ্রাম। প্রতিটি পাড়ায় চলছে শত শত তাঁত ও চড়কা। তৈরী হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শীত বস্ত্র। যেমন- মহিলাদের চাদর, পুরম্নষদের চাদর, মাফলার, তাঁতে বুনানো কম্বল, গামছা ইত্যাদি।

দিনের পর দিন শাওইল এর শীত বস্ত্র এর সুনাম ছড়িয়ে পরে। উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে বিভাগ, সর্বোপরি রাজধানীতে। স্বল্পমূল্যের শাওইল এর কম্বল, চাঁদর ও মাফলার এখন শুধু উত্তরবঙ্গেরই নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ঘরে ঘরে। এক দিনের ছোট শাওইল বাজার এখন পরিনত হয়েছে বন্দরে। সপ্তাহে ২ দিন (রবি ও বুধ) হাট বসে। দেশের বিভিন্ন প্রানত্ম থেকে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে, কেনা-বেচা হয় ট্রাকে ট্রাকে শীত বস্ত্র। এই কাজে গ্রামের ৭০০- ৮০০ জন নারী পুরম্নষ কর্মী নিয়োজিত, কেউ সুতা খুলছেন, কেউ চড়কায় সুতা তুলছেন, কেউবা তাঁত বুনছেন। 

শাঁওইল হাট এবং এর আশে পাশে গড়ে উঠেছে ১১০০-১২০০ দোকান। পাইকারী দোকানের সংখ্যা ১০০-১৫০ টি। এলাকার ৬০০- ৭০০ পরিবারের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার নারী পুরম্নষ প্রত্যড়্গ বা পরোড়্গ ভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ।

খাদ্যপণ্য : বগুড়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি খাদ্যপণ্যের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ও বৈশিষ্ট্য

দই

বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা কিংবা অঞ্চলে দই উৎপাদিত হলেও কিছু বিশেষত্বের কারণে বগুড়ার দই এর খ্যাতি দেশজুড়ে। উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে কারিগরদের (উৎপাদক) বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণের ড়্গেত্রে তারা যত্নবান হওয়ায় বগুড়ার দই স্বাদে-গুণে তুলনাহীন। প্রায় দেড়শ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোষ পরিবারের হাত ধরে বগুড়ায় দইয়ের উৎপাদন শুরম্ন। শেরপুরে দই তৈরির প্রবর্তক ঘোষপাড়ার নীলকন্ঠ ঘোষ। পরবর্তী সময়ে বগুড়ার নওয়াব আলতাফ আলী চৌধুরীর (পাকিসত্মানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর বাবা) পৃষ্ঠপোষকতায় শেরপুরের ঘোষ পাড়ার অন্যতম বাসিন্দা শ্রী গৌর গোপাল পাল বগুড়া শহরে দই উৎপাদন শুরম্ন করেন। বর্তমানে নওয়াব বাড়ি রোডে তার উত্তরসূরী দুই সনত্মান শ্রী বিমল চন্দ্র পাল ও শ্রী স্বপন চন্দ্র পাল শ্রী গৌর গোপাল দধী ও মিষ্টান্ন ভান্ডার নামে সেই প্রাচিন দোকানটি চালু রেখেছেন।

পাকিসত্মানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী তৎকালিন পার্লামেন্ট সদস্যদের দই খাইয়ে বাহবা পেয়েছিলেন বলে শ্রী স্বপন চন্দ্র পাল তার দাদুর মুখে শুনেছেন। শ্রী স্বপন আরও জানান তার দাদু শ্রী গৌর গোপাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২০০ মন দই সরবরাহ করেছিলেন। শ্রী স্বপন তার দাদুর আরও মজার স্মৃতি মনে করে বেশ গর্বের সহিত বলেন যে, স্বাধীনতা উত্তর মহান নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বগুড়া আগমন উপলড়্গে সারা রাত জেগে শ্রী গৌর গোপাল দই তৈরি করেন কিন্তু কিছুতেই তার নিকট পৌঁছাতে না পেরে অবশেষে বহু চেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তার বিশেষ দই তৈরি ও পরিবেশনের অভিপ্রায়ের খবর পাঠাতে সড়্গম হন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাদর আমন্ত্রণে নিজ হাতে দই খায়িয়েছিলেন। 

বিদেশে বগুড়ার দইয়ের খ্যাতি সর্বপ্রথম ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছরের গোড়ার দিকে তৎকালীন বাংলার ব্রিটিশ গভর্ণর স্যার জন এন্ডারসন বগুড়া নওয়াববাড়ি বেড়াতে এসে প্রথম দইয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন। তাকে কাচের পাত্রে তৈরি করা বিশেষ ধরণের দই খেতে দেওয়া হয়। লোভনীয় স্বাদের কারণে গভর্ণর এন্ডারসন বগুড়ার দই ইংল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পাকিসত্মানের তৎকালীর স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আইয়ুর খান বগুড়ায় এসে দইয়ের স্বাদ পেয়ে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাদের সহানুভূতি পেতে পাঠান এই দই।

বগুড়ার দই এর স্বাদ পেতে এখন ভারতবাসি দারম্নন আগ্রহী। এইতো কয়েক বছর আগে জলপাইগুড়ি জেলার চেম্বার কর্মকর্তাদের মধ্যে বগুড়ার দই নিয়ে তোলপাড় শুরম্ন হয়ে যায়। ওই সময়ে সেখানে অনুষ্ঠিত বাণিজ্যমেলায় বগুড়ার দইয়ের কদর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে বগুড়া থেকে ১০ মেট্রিক টন (প্রতিটি ৬শ গ্রাম ওজনের ১৭ হাজারেরও বেশি সরা) দই সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরে অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যে এত দই পাঠানো যায়নি। গত বছর ডিসেম্বরে জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত নর্থ বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনবিএনসিসিআই) আয়োজিত বাণিজ্যমেলায় পরীড়্গামূলকভাবে ৫শ কেজি দই পাঠানো হয় বগুড়া থেকে, দইয়ের স্বাদ পেয়ে সেখানকার লোক পিঁপড়ের মতো লাইন ধরে ভিড় করতে থাকে স্টলে। এত চাহিদা পূরণ করা যায়নি। 

বর্তমানে বগুড়ার প্রায় ২০০টি দই তৈরির কারখানায় শ্রমিক এবং কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৭০০০ জন। এ ছাড়া দই ব্যবসায় পরোড়্গভাবে যেমন দুধ উৎপাদন, মাটির সরা বা পাত্র তৈরি, জ্বালানী সরবরাহ, কার্টুন তৈরি, বাঁশের ফ্রেম তৈরি ইত্যাদি কাজে আরও প্রায় ১০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শুধুমাত্র বগুড়াতেই দই বিপণনের জন্য পাঁচ শতাধিক দোকান আছে। প্রতিটি দোকানে এক কেজি ও দুই কেজির সরা এবং ডুঙ্গিতে করে দই বিক্রি হয়। প্রতি কেজি দই এর দাম ১৪০ থেকে ২০০ টাকা।  

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী দই তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবকয়টি বগুড়া সদর এবং শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত। বগুড়া শহরের উলেস্নখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গৌরগোপাল মিষ্টান্ন, এশিয়া সুইটস্‌‌, আলহাজ্ব মহরম, আদি মহরম, আকবরিয়া গ্রান্ড হোটেল, শ্যামলী হোটেল, রফাত দইঘর, চিনিপাতা দইঘর, রম্নচিতা দই, মিষ্টি মহল, সেলিম হোটেল, শেরপুর দইঘর, দইঘর। শেরপুর উপজেলার দই তৈরির প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলো- হোটেল সৌদিয়া, ফুড ভিলেজ, রিংকী, জলযোগ, উষা, রিপন। এছাড়াও কাহালু, দুপচাঁচিয়া, গাবতলী এবং সারিয়াকান্দি (ফুলবাড়ি বাজার) উপজেলায় উন্নতমানের দই প্রস্তুত হয়। 

বগুড়ার দই ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়া, রানী এলিজাবেথ থেকে শুরু করে মার্কিন মুল্লুকে পৌছে গেলেও আমরা এই দই বড় পরিসরে রপ্তানী করতে পারছি না। রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও কাস্টমসের ট্যারিফ সিডিউলে পণ্যের তালিকায় দইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের বাইরে বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না । আশা করা যায় সরকার এই বিষয়ে আন্তরিক হবে।

মহাস্থানের কটকটি

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিঃমিঃ উত্তরে করতোয়া নদীর পাদদেশে হযরত শাহ সুফি সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার (র:) এর পূন্যস্মৃতি বিজরীত মহাস্থানগড়। এই স্থানটি মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের তীর্থভূমি। এই মহাস্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। কেউ বা আসেন পূণ্য অর্জনের জন্য, আবার কেউ আসেন ব্যবসা-বানিজ্যের জন্য। যিনি যে কাজেই এই মহাস্থানে আসুন না কেন, তাকে কিনতেই হবে একটি মিষ্টান্ন দ্রব্য যার নাম কটকটি। বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে অতি পরিচিত, সুস্বাদু অনন্য এই মিষ্টান্ন কটকটি। অনেকের মতে খাবার সময় এই মিষ্টান্নটি মুখের মধ্যে কট্‌ মট্‌‌ শব্দের সৃষ্টি করে বলে এর নাম- কটকটি

এই প্রসিদ্ধ কটকটি মিষ্টান্নটি কে প্রথম তৈরী করেছিলেন সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মহাস্থানের অনেক বয়জৈষ্ঠ্য মানুষের কাছে জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ১৭৫-২০০ বছর পূর্বে সাধক পুরম্নষ হযরত শাহ সুলতান বলখী (রঃ) এর মাজারের পাদদেশে মরহুম জহর মাহমুদ নামক জনৈক ব্যক্তি মহাস্থানে কটকটি ব্যবসা শুরম্ন করেন। তার চতুর্থ বংশধর মোঃ আশরাফুল ইসলাম ছালেক আজও এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কটকটির প্রস্তুত প্রণালী একেবারে সহজও নয়, আবার খুব কঠিনও নয়। প্রথমে চাউলকে মেশিনের সাহায্যে (পূর্বে ঢেঁকির সাহায্যে) গুড়া করে আটা করতে হয়। এরপর উক্ত আটাকে পানি মিশিয়ে রম্নটি তৈরির মত খামির তৈরি করা হয়। উক্ত খামিরকে একটি পাত্রের মধ্যে হাত দিয়ে মোটা রম্নটি তৈরি করা হয় (৩/৪ ইঞ্চি পুরম্ন করে), এর পর উক্ত পুরম্ন রম্নটিটাকে এক বর্গইঞ্চি আকারে চাকু দিয়ে কেটে অন্য একটি পাত্রে রাখা হয়। এখন একটি কড়াই-এ সয়াবিন তেল/ডালডা গরম করে তার মধ্যে বরফি আকারে কেটে রাখা চালের আটার টুকরাগুলি ঢেলে দিয়ে লাল লাল করে ভেজে নেওয়া হয়। অন্য কড়াইয়ে আখের গুড় জাল দিয়ে আঠা আঠা হয়ে এলে তার মধ্যে ভেজে রাখা বরফিগুলো ছেড়ে দিয়ে নাড়া চাড়া করতে হয়। জাল দিতে দিতে যখন গুড়গুলো শক্ত আকার ধারন করে এবং বরফিগুলোর গায়ে লেগে যায়, তখন তা নামিয়ে রাখা হয়। এভাবেই মহাস্থানের বিখ্যাত কটকটি তৈরি করা হয়। কটকটিকে সুস্বাদু করার জন্য আটার খামীরের মধ্যে কালোজিরা মিশানো হয়।

প্রতিটি কারখানায় গড়ে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজ করে বলে কারখানার মালিকগণ জানান। তবে স্থানীয়রা বলেছেন কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা আরও ২/৩ গুণ বেশী। আয়কর বিভাগ এবং অন্যান্য কারনে শ্রমিকের সংখ্যা মালিক পড়্গ হতে কমিয়ে বলা হয়েছে। প্রতিটি শ্রমিকের মজুরী দিনে ২০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পর্যনত্ম। এই কারখানা গুলোতে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশী। প্রতিটি কারখানায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭-১০ মণ কটকটি তৈরি করা হয়। প্রতি শুক্রবারে ২/৩ গুণ বেশী কটকটি তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি কটকটির মূল্য ১০০ থেকে ১৪০ টাকা।

মহাস্থান এলাকার কটকটি বিপননের জন্য প্রায় ৩৮টি দোকান রয়েছে। অর্ধসহস্রাধিক শ্রমিক/কর্মচারী প্রত্যড়্গভাবে কটকটি ব্যবসায় জড়িত যাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই ব্যবসায় পরোড়্গ উপকার ভোগীর সংখ্যা কয়েক হাজার। মহাস্থান কটকটি একসময় শুধুমাত্র মহাস্থান এলাকায় বিক্রি হত। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভুতপূর্ব উন্নয়নের সাথে সাথে কটকটির বাজার সমগ্র উত্তরবঙ্গে ছড়িয়ে গেছে। কটকটির চাহিদা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কটকটি উৎপাদনে একসময় গমের আটা ব্যবহার করা হত বলে জানা যায়, তবে গমের আটা দিয়ে তৈরী কটকটি নিম্নমানের হওয়ায় এবং গমের আটার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র চাউলের আটার মাধ্যমে কটকটি উৎপাদন করা হয়। আতব চাউল এর আটা দিয়ে উন্নত মানের সুস্বাদু কটকটি তৈরী হচ্ছে, যার চাহিদা দিনদিন বাড়ছে।

কথিত আছে একসময় দরবেশ সৈয়দ আলী কটকটি পড়ে ভক্তদের দিতেন, এর মাধ্যমে অনেকের মনের আশা পূর্ণ হতো। এর মাধ্যমে কটকটির প্রসার লাভ করে। সপ্তাহের শুক্রবার এবং বৈশাখের শেষ বৃহঃস্পতিবার মহাস্থানের বার্ষিক মেলার দিন কটকটি বিক্রির পরিমাণ সর্বাধিক।

বগুড়ার মহাস্থানের কটকটি ব্যবসা প্রসারের জন্য স্থানীয় এবং জাতীয় প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং এনজিওরা এগিয়ে এলে এই ব্যবসা আরও পরিচিতি লাভ করবে, ব্যবসার প্রসার ঘটবে-আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

লাচ্ছা ও সাদা সেমাই

বগুড়ার লাচ্ছা ও সাদা চিকন সেমাই এর কদর দেশ জুড়ে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর নামি দামি দোকান এবং সপিংমল সমূহে বগুড়ার লাচ্ছা ও সাদা চিকন সেমাই বিক্রি হয়। যারা বগুড়ায় এই দুইটি পণ্য একবার কিনেছেন বা খেয়েছেন তাদের কাছে এই পণ্য দুইটি বগুড়ার দই এর মতই আকর্ষনীয়। লাচ্ছা সেমাই বগুড়া শহর ছাড়াও কাহালু উপজেলার শেকাহার ও অনত্মারপুকুর এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশী তৈরী হয়। আকবরিয়া গ্রান্ড হোটেল, শ্যামলী হোটেল ও এশিয়া সুইট মিটস্‌্‌ এর ঘি এর তৈরী লাচ্ছা সেমাই প্রসিদ্ধ। কাহালু  (শেকাহার) থেকে প্যাকেট জাত হয়ে লাচ্ছা সেমাই এবার মায়নমার-এ রপ্তানী হয়েছে। বগুড়ায় সাদা চিকন সেমাই শহরের চকলোকমান, বিহারী কলোনী, শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা, সদর উপজেলার ধরমপুর, বারপুর, এরম্নলিয়া ও মহাস্থান এলাকায় বেশী তৈরী হয়। দুই ঈদে এই সেমাই সমূহের চাহিদা সর্বাধিক। এ সময় ট্রাকে ট্রাকে সেমাই দেশের বিভিন্ন শহরে চালান হয়।

শক্তিদই

বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় বেতগাড়ী এলাকায় শিশুদের পুষ্টি চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে স্বল্প মূল্যে বিতরণের জন্য ড: মুহম্মদ ইউনুছ এর গ্রামীন ব্যাংক ও ডানোন কোম্পানি যৌথ উদ্যোগে শক্তিদই উৎপাদন শুরম্ন করেন। যা বগুড়া তথা সারাদেশের শিশুদের পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য বিশাল অবদান রাখছে।

বগুড়ার উলেস্নখিত পণ্য সমূহের প্রচার ও প্রসারে তেমন কোন সরকারী উদ্দ্যোগ না থাকায় অনেক পণ্যই এখন হুমকির সম্মুখিন। তবে আশারকথা বগুড়ার এই পণ্যসমূহের অসিত্মত্ব রড়্গায় এবং প্রসারে স্থানীয় ব্যক্তি উদ্দ্যোগ, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দ্যোগ, দেশীয় ও আনত্মর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অবদানের কারণে আজও পণ্যগুলো তাদের অসিত্মত্ব বাঁচিয়ে রেখেছে। এখনই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে হয়তো সতরঞ্চির মত অন্যান্য পণ্যগুলোর অসিত্ব বগুড়া থেকে একদিন হারিয়ে যাবে।

 

Visitor Counter

4295

Recent News
Invitation Card
Recent Activities of GBUS
সাম্প্রতিক কার্যক্রম
সাফল্যের গল্পঃ পারিবারিক নির্যাতন এর উপরে মীমাংশা
সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম
Recent Activities Of USA
Important Notice for all NGOs
ধুনটে প্রতিবন্ধি দিবস পালিত
Providing necessary photos and information
Eid-Ul-Azha
Important Notice for All NGO
Implementing Activities under Bogra District
Recent Activity
ভার্মিকম্পোস্ট/কেঁচো সার উৎপাদন প্রকল্প উদ্বোধন
ASA launches Power Tiller Loan
Water and Sanitation Program
৩৫ তম বার্ষিক সাধারন সভা ,২০১৪
Physiotherapy Program
Health Awareness Program
Primary Education Strengthening Program
Recent Activities
Porisker's Determination to a Vision
Recent Activities Of Alore Dishari
স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে উপজেলা এ্যাডভোকেসি সভা
স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে উপজেলা এ্যাডভোকেসি ওয়ার্কশপ
IMPLEMENTATION STRATEGY
Future Plan of the Organization
Recent Activities
Recent Activities Of RPF
বগুড়া জেলার সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচী/কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য
Recent Activities of KMSS
এক নজরে চলমান কর্মসূচী
AZEECON ToT on Community-managed Climate Change Actions concludes
14th RDRS Partners’ Consultation concludes
Assistance provided to the flood-affected people
CARE BANGLADESH CURRENT PROJECT INFORMATION
All Project Pocation Map of CARE BANGLADESH
Recent Activities of SANCO
সাফল্যের গল্প (পসাউস)
চলমান কার্যক্রম সমূহ
Recent Activities of UDPS
Recent Activities of Chalanbil Socity
Net working/Form Meeting Information (2011-2014)
Information of Training from Outside (Period: 2012-2013-2014)
Information About all Meetings/Seminar/Workshop (Poriod: 2011-2012, 2012-2013 and 2013-2014)
Recent Activities
Recent Activities of GBS
Kamalpur, Dhunot and Shariakhandi Flood Relief and Rehabilitation Report
Woman Story
Child Story
Story of a Disable Person
Relief Distribution Work Details
সাফল্যের গল্প ( সংগ্রামী ফাতেমার জীবন গাথাঁ )
সাফল্যের গল্পঃ ১
সাফল্যের গল্পঃ ২
সাফল্যের গল্পঃ ৩
সাফল্যের গল্প
Success Story
'রায়নগর সামাজকি সুরক্ষা দলরে' সৌজন্য শেষে পর্যন্ত আট মাসরে শশিুকে ফিরে পেল মা
‘‘এ যাত্রায় একটি নতুন পথের সন্ধান পেল ওরা ১৪ জন..... ”
Protecting Human Rights (PHR) Program
Recent Activities at Bogra


List Of All NGOs
AAA AAA
Alore Dishari Mohila Unnaon Shongstha Alore Dishari Mohila Unnaon Shongstha
ASA ASA
Association for Community Development (ACD) Association for Community Development (ACD)
BADAS-Perinatal Care Project BADAS-Perinatal Care Project
Bangladesh Association for Maternal And Neo-Natal Health(BAMANEH) Bangladesh Association for Maternal And Neo-Natal Health(BAMANEH)
Bangladesh Extension Education Services(BEES) Bangladesh Extension Education Services(BEES)
Bangladesh National Woman Lawyers' Association(BNWLA) Bangladesh National Woman Lawyers' Association(BNWLA)
Bogra Young Men's Christian Association Bogra Young Men's Christian Association
BRAC - ব্র্যাক BRAC - ব্র্যাক
BURO Bangladesh BURO Bangladesh
CARE BANGLADESH CARE BANGLADESH
ccc ccc
Family Planning Association of Bangladesh (FPAB) Family Planning Association of Bangladesh (FPAB)
FH  ASSOCIATION FH ASSOCIATION
Focus Society Focus Society
Gram Bangla Unnayan Sangstha (GBUS) Gram Bangla Unnayan Sangstha (GBUS)
Gram Bikash Sangstha (GBS) Gram Bikash Sangstha (GBS)
GRAM UNNAYAN DHARA – GUD GRAM UNNAYAN DHARA – GUD
Gram Unnayan Karma (GUK) Gram Unnayan Karma (GUK)
Grameen Alo Grameen Alo
Grameen Bikash Foundation (GBF) Grameen Bikash Foundation (GBF)
KMSS ( Khulna Mukti Seba Sangstha ) KMSS ( Khulna Mukti Seba Sangstha )
Lepra Bangladesh Lepra Bangladesh
Manabik Sahajay Sangstha (MSS) Manabik Sahajay Sangstha (MSS)
Marie Stopes Marie Stopes
mmm mmm
Mohishbathan Samaj Kallayan Samiti (MSKS) Mohishbathan Samaj Kallayan Samiti (MSKS)
Mothurapara Mohila Unnyan Sangstha (MMUS) Mothurapara Mohila Unnyan Sangstha (MMUS)
NGO Forum for Public Health NGO Forum for Public Health
Pally Samazic Unnayan Sanggathan (PSAUS) Pally Samazic Unnayan Sanggathan (PSAUS)
Plan International Bangladesh Plan International Bangladesh
Polly Gono Unnayan Sangstha (PGUS)
Prodip Sangstha (PS) Prodip Sangstha (PS)
RDRS Bangladesh RDRS Bangladesh
RHSTEP RHSTEP
SANCO- Social Advancement Networking Community Organization SANCO- Social Advancement Networking Community Organization
Shuranjana Social Service Association (SSSA) Shuranjana Social Service Association (SSSA)
Social Economic Development Society (SEDS) Social Economic Development Society (SEDS)
Society for Own Village Advancement (SOVA), Society for Own Village Advancement (SOVA),
SOS Children’s Village Bogra SOS Children’s Village Bogra
STR Foundation STR Foundation
The Glencoe Foundation The Glencoe Foundation
Transparency International Bangladesh (TIB) Transparency International Bangladesh (TIB)
Village Education Resource Center (VERC) Village Education Resource Center (VERC)
অবলম্বন নারী সংঘ (অনাস)
আব্দুল হাই জহুরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আব্দুল হাই জহুরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
আমেনা ফাউন্ডেশন আমেনা ফাউন্ডেশন
আলোর পথে
ইউনিয়ন ফর সোস্যাল এ্যাডভান্সমেন্ট (ঊষা)। ইউনিয়ন ফর সোস্যাল এ্যাডভান্সমেন্ট (ঊষা)।
উত্তরা ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটি (ইউডিপিএস) উত্তরা ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম সোসাইটি (ইউডিপিএস)
এসো গড়ি
ওরাপ ওরাপ
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ
করতোয়া পল্লী উন্নয়ন সংস্থা করতোয়া পল্লী উন্নয়ন সংস্থা
খন্দকার কল্যাণ ট্রাস্ট এন্ড অর্গানাইজেশন (KKTO) খন্দকার কল্যাণ ট্রাস্ট এন্ড অর্গানাইজেশন (KKTO)
গণপ্রচেষ্ঠা সংস্থা
গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প ( GUP)
চলনবিল হেলথ এন্ড এনভারমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি চলনবিল হেলথ এন্ড এনভারমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি
চার্চ্চেস অব গড মিশন চার্চ্চেস অব গড মিশন
ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (TMSS) ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (TMSS)
তারা পলিস্ন উন্নয়ন সংস্থা
ধ্রুব সোসাইটি
নবজাগরন সংস্থা (NJS) নবজাগরন সংস্থা (NJS)
নামুজা অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা (NEDO) নামুজা অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা (NEDO)
পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প
পল্লী স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা পল্লী স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা
পেস্ড পেস্ড
বসতি ফাউন্ডেশন
মৈত্রী পল্লী উন্নয়ন সংগঠন (MPUS) মৈত্রী পল্লী উন্নয়ন সংগঠন (MPUS)
রহবল প্রগতি ফাউন্ডেশন (RPF) রহবল প্রগতি ফাউন্ডেশন (RPF)
লাইট হাউস লাইট হাউস
ল্যান্ডলেস ডিসট্রেসড রিহ্যাবিলিটেশন অর্গানাইজেশন আলম মঞ্জিল
সিমবায়োসিস বাংলাদেশ সিমবায়োসিস বাংলাদেশ
সোশ্যাল এডভান্সমেন্ট প্রোগ্রাম এন্ড নেটওয়ার্কিং অর্গানাইজেশন সোশ্যাল এডভান্সমেন্ট প্রোগ্রাম এন্ড নেটওয়ার্কিং অর্গানাইজেশন
হিউম্যান এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (HARD) হিউম্যান এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (HARD)
হিউম্যান রির্সোসেস ডেভেল্পম্যান্ট প্রজেক্ট
হেলথওয়েজ ফাউন্ডেশন